1. admin@sahittyadiganta.com : সাহিত্য দিগন্ত ডেস্ক : সাহিত্য দিগন্ত ডেস্ক
  2. editor.sahittodigonto@gmail.com : সম্পাদক : জায়েদ হোসাইন লাকী : সম্পাদক : জায়েদ হোসাইন লাকী
রিপন কুমার পান্ডের কবিতা - সাহিত্য দিগন্ত পত্রিকা
বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ০৯:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কবি শাহীন রেজার জন্মদিন পালিত বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করল ADAMP ঢাকা সাহিত্য পরিষদ-এর আজীবন সদস্য হলেন পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান সমাজসেবক অনির্বাণ সামন্ত এনহেদুয়ানা : পৃথিবীর প্রথম নারী কবি। বাঙ্গালীর কণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪ পাচ্ছেন কবি, সম্পাদক সৈয়দ এরশাদুল হক মিলন মানুষের জন্য লিখে যেতে চাই -কবি দেলোয়ার হোছাইন এক ৯ নয় ১’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। বাংলা একাডেমি পুরস্কার ফেরত দিলেন কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ালো ADAMP পরিবার বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকায় ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর সরকারঃ প্রাসঙ্গিক ইতিহাস অনুসন্ধান। ড. মহীতোষ গায়েন।

রিপন কুমার পান্ডের কবিতা

মেহবুবা হক রুমা I সাহিত্য ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৩৩৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কবি পরিচিতি
রিপন কুমার পান্ডে ১৯৮০ সালের ৯ আগস্ট বরিশাল জেলার গৌরনদী থানাধীন বার্থী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত একটি গ্রাম মৈতারকান্দিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন সাধারণ গ্রাম ডাক্তার। বাবার কর্মসূত্র ধরেই এখানে তাদের আগমন। তবে বাবার মৃত্যুর পর কবি ঐ গ্রাম ছেড়ে তার পৈত্রিক নিবাস আগৈলঝাড়া থানাধীন বাহাদুরপুর গ্রামে চলে যান। তিনি টরকী বন্দর ভিক্টোরি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে এসএসসি ও শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালে এইচএচসি সমাপ্ত করে উচ্চতর ডিগ্রির স্বপ্ন দেখেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ৯৯৮-৯৯ শিক্ষা বর্ষে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞান’ বিভাগে ভর্তি হয়ে সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল তার। ২০০৬ সালে সেখান থেকেই তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে কবি রূপালী ব্যাংক লিঃ এ কর্মরত আছেন।

দ্বৈরথ
(কাজী নজরুল ইসলাম স্মরণে)
যে মাখলুকাতে সেজদা দিয়ে আমায় তুমি কুফর করো
আমি অমন ধর্মের ধার ধারিনা যতই শিরে অস্ত্র ধরো।
তোমার ব্যূহ দ্বারে বজ্রকেতুর দিগবিদারী প্রয়োল্লাস
যাঁর বিঘাত কৃপায় সজীব আমার প্রাণের কেশর দীর্ঘশ্বাস!
এখন তোমার মাসিয়াতে জায়ার বুকে জাগে হুতাশ
এখন তাঁরা কামের পুতুল বদ্ধ ঘরের মদন বাতাস।
এখন দ্রোণাচার্যগণ ক্রুদ্ধ হয়ে সাজায় পসার দ্রাক্ষা রসের
তুমি আলেম হয়ে তালিম করে জাহান্নামের আগুণ দুয়ার।
এখন তোমার আব্রুতলে জান্নাতের ঐ মালুম মেলে
তুমি লেবাসধারী ব্রহ্মচারী কাদের ভোলাও মায়ার ছলে?
তুমি আশ্রাফুলই হবে যদি জঙ্গমা শৃঙ্গার ভয় কেন পাও
তবে কিসের বার্তা বাহক তুমি দিগি¦জয়ের ঝান্ডা ওড়াও!
তুমি হত্যাকারী ব্যভিচারী বর্বর কন্দর্প ভুজঙ্গ মনোরথ
তুমি মৃত্যু দুয়ারে মায়াদানব, তোমার পাঁজরে অগ্নুৎপাত।
তুমি প্রলয় প্রভঞ্জন প্রবোধ ভঞ্জন রক্ত পিপাসু অসুর
তুমি হিংস্র তবারক পরশ্রীকাতর বৃশ্চিক পিশাচ নর ।
তুই অবিমৃষ্যকারী কায়স্ত, ফেরাউন অধর্ম তোর অস্ত্র
আমি সন্যাসি, আমি মহর্ষি, আমি পরিতোষ পুণ্য সত্য।
আমি মানুষ, আমি অবনির বিভতি সকল, পুলক প্রবাহ নৃত্য
আমাকে ভাসায় প্রেমের খেয়াল, তুই জরাজীর্ণ কামাসুর ভৃত্য।
তুই চর্ণ চতুর শিরোমণি চড় পঞ্চভুতের নিকৃষ্ট শর
আমি অমরেশ আমি ঈশ্বর আমি বিশ্ব প্রেমিক প্রবর।
আমি মহাপ্রলয়য় থেকে ছিনিয়ে আনি পারিজাত প্রেম অর্ঘ্য
আমি তিয়াসা মেটাই চাতক চাতকীর রচি প্রেমালয় স্বর্গ।
আমি অনাদি অনন্ত দুর্বিনীত দুর্জয় প্রেম প্রবাল
আমি সৃষ্টি স্থিতি প্রাচ্য প্রতীচীর কুসুম রাঙা ফুল।
আমি জীর্ণতাকে ছিন্ন করে ঘুচাই আঁধারের গ্লানি
তুই উদার সর্বস্বী ভুখা রাক্ষসী গন্ধভাদালি শকুনি।
আমি কীর্তিনাশার করাল স্রোতের পলল প্রবাহ ঘূর্ণি
আমি লুণ্ঠিতে বিষাণ হুঙ্কার ধ্বনি ক্রন্দনে তুলি ফনি।
আমি যাজ্ঞিক, আমি সাগ্নিক, আমি আঁধারে পাতি অঞ্চল
আমি উর্বশীদের গোপন কোঠরে নির্ঘুম চোখের কাজল।
আমি মৌনী বীণা পাণি, আমি নিরন্ন ক্ষুধিতের বিষণ্ণ বাঁশি
আমি হুতাশ তাড়িয়ে শীর্ণ মুখে আনি বিনোদ কল্লোল হাসি।
আমি সঞ্চারণ আমি গুঞ্জরন আমি রক্ত করবী কাঞ্চন
আমি ক্ষণকাল আমি চিরকাল আমি প্রাণে প্রাণে আনি সিঞ্চন।
আমি যমের দুয়ারে ছেনির আঘাতে ছিনিয়ে আনি রাঙা প্রভাত
আমি মর্মে মর্মে জলাঞ্জলি দেই জগন্ময় মৃন্ময় সংঘাত।
আমি ধর্ম আমি কর্ম আমি হিন্দু মুসলিম খ্রিষ্টান
তুই অধর্ম তুই কুকর্ম তুই কুলাঙ্গার প্রমাদ প্রভঞ্জন।
আমি দূর গগনের শশীকলা কর মহাকাল আমার পায়
আমি নক্ষত্র নিকর কৃষ্ণগহ্বর ঐরাবত পথ দেখায়।
আমি বিন্দু আমি সিন্ধু আমি অসীম অনšত অম্বর
আমি মহাশূন্য ভেদে চলা যান, বিষ্ণু বাহন গরুড়।
আমি ইলেকট্রন আমি নিউট্রন আমি কোটি বিশ্বয় বিজ্ঞানের
আমি বিশ্ব বিধাতার অবিনশ্বর নিউরন ভ্রমি পথ যোনির ভিতর।
আমি মান আমি অভিমান, আমি ষোড়শীর বুকে রুদ্র তান
আমি স্বর্ণ কেশরী যৌবন কানন প্রলয় তরঙ্গ উত্তঙ্গ তুফান।
আমি ভেঙে করি সব চুরমার তাই আমি অতি দুর্মর
আমি স্বপ্ন চারিণী তন্দ্রা হারিণী তুন্দ্রা তুষার নির্ঝর।
আমি প্রতাপাদিত্য বাঙাল, আমি হিলফুল, আমি একনিষ্ঠ একলব্য
আমি রামায়ণ, আমি মহাভারত, আমি দুর্লক্ষ্য অক্ষর মহাকাব্য।
আমি মৃত্যুর নীড়ে গোপন শিহরণ অনিল প্রবাহ প্রাণ
আমি ভৃগুর কোলে জন্ম নেয়া সৃষ্টির সঞ্জীব আন্দোলন।
আমি চঞ্চল শিশুর হেলদোল আমি অট্ট হাঁসির খিলখিল
আমি জীবনান্দ, আমি পরমানন্দ, তুই ভন্ড কপট গরমিল।
আমি শ্রাবণ বারিধারা, তুই অচেতন বধির জড়া
আমি অমর আমি অবিনশ্বর, আমি মৃত্যুভয় ছাড়া।
আমি মহারনে অবিচল দ্রোহী পঞ্চশর, ধর্মাবতার যুধিষ্ঠির
আমি বার্তা আনি কালাšতরের, পৌনঃপুনিক প্রেম মাতৃ জঠরের।
আমি ভীম আমি আলী আমি পরাক্রমশালী রুদ্র
আমি পার্থ শ্রেষ্ঠ যাদবের, অধর্ম বিনাশিনী শূদ্র।
আমি স্নিগ্ধ কোমল সুর ছন্দ, দুলি ঘনশ্যাম ছলে
তুমি ফেনিল অনল ঢেলোনা আর শতরঞ্জি তলে

ধোবিখানা
সপাং সপাং বেত্রাঘাত, পশ্চাদ্দেশে জ্বালা
ছত্রপতি ভুপাতিত, হৃদয় উতলা।
মনে মনে করে পণ, কঠিন তাপস
যাবোনা স্কুলে আর, খেলবো বারোমাস।
ধিতাং ধিতাং নেচে কুঁদে, যাবো মেঠো পথে
তন্বী বালা যাবে সাথে, তড়াক তাকতে।
ডঙ্কা মেয়ে জ্যৈষ্ঠ মাসে, খেলে একা গায়
আমি হব ছত্রী সাথী, ঠাটা রৌদ্র ছায়।
মাস্টেমশাই চাঁছাছোলা, ডাক কেন গাধা?
আমি নাকি ধ্যাড়া পোলা, মাথামোটা হাঁদা!
‘এত করে বলি তোরে ঢোকেনা মাথায়
ধোবিখানা গিয়ে তুই মাথা ধুয়ে আয়।
চাতুরালি দিয়ে ব্যাটা বিদ্যা হয়না
ছেঁদো ভোঁদা মানুষগুলা ঠুঁটা ঢ্যামনা’।

সঞ্চারী
এই অনন্ত গগন তলে
ফোটে যে ফুল করবী কাঞ্চন বনে
যে সুবাস মাখি আমি মাধুকর সনে
সেই অবিনশ্বর ঐশ্বর্য পুলক আহ্লে
ফিরে আসে আমার পঞ্চতন্ত্র জুড়ে
প্রেমের কোমল নীড়ে।
আহা; কি মূর্খ আমি, কি আনাড়ি!
সেই অবিনশ্বর ধারা, যতবার সরিয়েছি দূরে
ততবারই দূরে সরে গেছি আমি,
আমার ডাঙ্গায় ভেড়ান তরী
হয়েছে লক্ষ্যচ্যুত; ছিঁড়েছে নোঙ্গরের দড়ি
কালের নিটোল নিগড়ে।
অপূর্ব বিচিত্র কোন সন্ধ্যায়
ফিরে আসে প্রেম; আমার নিথর চিত্তের পর
নরেন্দ্র পুলকে জাগায়, গোপন নির্ঝর।
তরীখানি মোর, ভেড়ে আপন কুলায়
প্রেমানন্দ জাগে মন্দিরে।
ঐ বিপুল সুনীল নির্জন অরণ্য থেকে
ভেসে আসে যে প্রগলভ ডাক
সে তো অব্যয়!
তাই, আমি সঞ্চারী আকাশে বাতাসে
যেখানে অনন্ত সকাল সদা প্রকাশে,
সেখানে আমি চলি ছলছল
সেখানে আমি তাঁরা ঝলমল
সেখানে ফোটে কত যে কমল
ফিরে যাই তার চিদাকাশে।
সেখানে ঘুমায় অনিঃশেষ মলয়
কত যে তপন বাসর সাঁজায়!
সেই সিঁদুর রাঙা নক্ষত্র আভায়
সেঁজুতি হরষে চুপিসারে।
আমার পসারিণী প্রাণে ফিরে আসে তান
মন্দ্রিত সুরে আমি গাই গান,
আমি ভ্রমি পথ কাননে কাননে
যেখানে আনন্দ মায়াজাল বোনে,
অমরাবতীর সনে;
প্রশান্ত আমার ফেরে তপোবনে
তাপসী ফেরে মানসে।

প্রেম
হারিয়ে যারে খুঁজি চন্দ্র তাঁরায়
সেই তো আমার প্রেম সুধাকর
মর্মে বেঁচে রয়।
নতুন পাতায় যেমন গজায় কুঁড়ি
কুন্দ লতায় যেমন বাঁধা পড়ি,
যেমনি করে আসে রাঙা ভোর
তেমনি করে বাঁধে প্রণয় ডোর
চাঁদের জোছনায়।
বিজন বনে পাখি সুরে গায়
পূরবী তাই তড়িৎ বেগে ধায়।
কুকথার ঐ কানাকানি
জ্বালায় কেন আমারে
আমায় তারা যতই সরায়
পরান আমার বাঁধা রে।
সে যে আমার সন্ধ্যা প্রদীপ
আঁধার ঘরের চিন্ময়,
তাড়ায় আমার কুহক শ্বাপদ
পরাকাষ্ঠা তার প্রণয়।
আমি বিদূর মনে বিতান সনে
সাঁজাই তারে মনে মনে,
আকীর্ণ তার প্রেমের ভূষণ
আমার মনে পাতে আসন
আমার মনে ফেরে প্রাণন
আবীর মাখি গায়।

বিরহ
মেঘের ওপার তপ্ত ববির খেলা
মনেরে পোড়ায় তোমার অবহেলা,
একি প্রেম তুমি দিলে আমায় বিধি
অহর্নিশি কী যে খুঁজি নিধি!
কিসের পানে ছুটে চলি, আমি একেলা।

প্রত্যুষে আমি পাই না খুঁজে তারে
বুকের ভিতর গুমরে কাঁদে ব্যথা,
প্রেমের লাগাম পাই না কেন বঁধু
কেমন করে তারে আমি বাঁধি।

চক্ষু আমার ঝরে তাহার লাগি
বিধির কাছে যখন তারে মাগি,
প্রাণে আমার পরশ লাগায় ব্যথা
মোহন বাঁশি যেমন ডাকে রাধা।

ছলনা
নয়ন তোমারে দেয়নি দেখিতে সখা
তাই তো প্রাণন হারায় পথের দিশা।
দোদুল মনে প্রেম ছিলনা তোমার
তাই তো আমি পাইনি তোমার দেখা।
তুমি চরণ ফেল দূরের ভূধর
খুঁজে মরো নক্ষত্র নিকর
ঐ দূর গগনের প্রভঞ্জনে
প্রনষ্ট হয় তোমার রঞ্জন।
ভোরের পাখি ডাকে তোমায় আজি,
শিশির শুকায়, শুকায় তোমার আঁখি।
তুমি খেলার ছলে আমায় গেছ ফেলে
এখন কেন তাকিয়ে থাক একলা গগন তলে।
নীল বেদনা তোমার মনে প্রলাপ জাগায় ক্ষণে
তুমি মলিন হাস মনে মনে, একলা নিরজনে।
তুমি বিজন বনের বাতায়নে কেন করো শোক
আমার জ্বালা কমল কুঁড়ি সাজায় আমায় খুব!
তুমি আমায় ডাকতে মরো লাজে
আমার প্রীতি গুমরে কাঁদে শাড়ির মলিন খাঁজে।
আবার যদি আসতে পারো সংকোচের মেঘ ঠেলে
আমায় পাবে ঈশান কোনায় পিঙ্গল পাতার তলে।

রিপন কুমার পান্ডে
(কবি, কথাসাহিত্যিক)

Facebook Comments Box
Website | + posts

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মিকি মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান। © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় Rudra Amin